ইতালিফেরত এক ক’রোনা রো’গী এসেই জ’ড়িয়ে ধরলেন ৮১৩ ভারতীয়কে !

ক’রোনা ধ’রা পড়ার আগ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ভারতীয়র সংস্পর্শে গেছেন ইতালিফেরত এক ভারতীয়।পশ্চিম দিল্লির জোনাকপুর অঞ্চলের বাসিন্দা ৪৬বছরের বয়সী ওই ব্যক্তি ১২ মার্চ ইতালি থেকে নিজ দেশ ভারতে ফিরেন।এরইমধ্যে ওই ব্যক্তির মা ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হয়ে মা’রা গেছেন।

চীনের পর সবচেয়ে বেশি আ’ক্রান্ত ও মৃ’ত্যুর ঘটনা ইতালিতে। সেখানে এখন পর্যন্ত ২১ হাজার ১৫৭ জন এই ভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হয়েছে এবং মা’রা গেছে ১ হাজার ৪৪১ জন।

ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি ইউরোপের চার দেশ ভ্রমণ করে তিনি দেশে ফিরেছেন।এসব দেশের মধ্যে ইতালিও ছিল।দেশটির স্বাস্থ্যসেবা অফিস জানিয়েছে, দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর তিনি একাধিক ব্যক্তির সং’স্পর্শে আসেন। পরে থার্মাল সেন্সর দিয়ে তার শরীর স্ক্রিনিং করা হয়। এতে তার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক ধরা পড়ে। এরপর তাকে ছেড়ে দেয়া হয় এবং তিনি বিভিন্ন জনের সঙ্গে মেশার সুযোগ পান।

তার এক আত্মীয় জানান,বিমানে তার সঙ্গে আরো ছয়জন ছিলেন এবং ক’রোনা পরীক্ষায় তাদের সবার রেজাল্ট নেগেটিভ আসে। যদিও প্রথমে তার শরীরে ক’রোনার কোনো লক্ষণই ছিল না এবং তিনি ইচ্ছামতো স্বাভাবিক কাজ করে যাচ্ছিলেন। পরে তিনি জ্ব’রে আ’ক্রান্ত হন।

জোনাকপুরে বাড়িতে যাওয়ার পর ক’রোনা শনাক্ত হওয়া এবং এরপর আইসোলেশনে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের সঙ্গেও মেশেন। তার ৬৮ বছর বয়সী মা ছোট ভাইকে নিয়ে অন্য বাড়িতে থাকতেন।তিনি প্রায়ই তার বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন।

পরিবারের এক সদস্য বলেছেন,পরিবারের সব সদস্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নে’গেটিভ রেজাল্ট এসেছে। শরীরে ক’রোনা ধরা পড়ার পর তার বাড়ি অ’বরুদ্ধ করা হয়েছে। তবে আমরা এখন সবাই ভি’ত। আমরা এরইমধ্যে মাকে হা’রিয়েছি।

দেশটির স্বাস্থ্যসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালকের দেয়া তথ্য বলছে, ইতালি থেকে দেশে ফিরে ক’রোনায় আ’ক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি ৮১৩ জনের সঙ্গে মিশেছেন। এর মধ্যে দিল্লিতে ৪০ জন এবং এর বাইরে ৭৭৩ জন।

তথ্য আরো বলছে, এর মধ্যে ১৪ জন ওই ব্যক্তির মায়ের সংস্পর্শে গেছেন। এছাড়াও ওই ব্যক্তির বাড়ি জোনাকপুরি পশ্চিম থেকে নাইদোর বোটানিকাল গার্ডেন স্টেশনের দূরত্ব ৩৮.৫ কিলোমিটার। সেখানে যেতে ২৫টি স্টেশনে থামতে হয়। তাই এই যাতায়াতে তিনি ঠিক কতজনের সঙ্গে মিশেছেন তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদন বলছে, ওই ব্যক্তি নাইদোর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং সেখানে সাতশোর অধিক কর্মচারী রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *